জীবন দিয়ে ২০ শিশুর প্রাণ বাঁচালেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী

78
ফেসবুকে ফলো করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ভয়াবহ ঘটনায় যখন দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, তখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন একজন সাহসী শিক্ষিকার আত্মত্যাগ। নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে অন্তত ২০ শিশুর প্রাণ বাঁচিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

 

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন স্কুলের প্রাইমারি সেকশনের একটি ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও আতঙ্ক। এ সময় ক্লাসে ছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। ঘটনার আকস্মিকতায় চারপাশে ধোঁয়া ও আগুনের বিস্তার ঘটে। ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে বাচ্চাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যান শিক্ষিকা মাহেরীন।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্যমতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তিনি প্যানিক না ছড়িয়ে ঠাণ্ডা মাথায় একে একে শিশুদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে থাকেন। তার এই বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত না হয়েই ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হয়। কিন্তু বারবার ভিতরে ঢুকে শিশুদের বের করে আনার পর শেষবার আর ফেরা হয়নি তার। দগ্ধ হয়ে আটকা পড়েন ভবনের ভেতরে।

 

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। এক অভিভাবক জানান, ম্যাডাম ছিলেন খুব দায়িত্বশীল, খুব স্নেহশীল। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তার ত্যাগেই ২০ জন শিশু বেঁচে গেছে।

 

ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন নিহত ও ১৭১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি এখনো বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পরপরই সরকার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।