যমজ কন্যা সন্তান মানেনি স্বামী, সংসার বাচাঁতে পানিতে ফেলে হত্যা করলেন মা

230
ফেসবুকে ফলো করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে নিজ বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে ফেলে ছয় মাস বয়সী যমজ দুই শিশু কন্যাকে হত্যায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মা শান্তা বেগম (২৪)। বিয়ের প্রায় দুই বছর পর কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় স্বামী সোহাগ শেখ (২৮) মেনে নিতে না পারলে পারিবারিক কলহের জেরে মা নিজেই যমজ শিশু কন্যাকে পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করেন।

আজ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশীকুর রহমান ১৬৪ ধারায় মা শান্তা বেগমের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

এর আগে এ ঘটনায় পুলিশ যমজ শিশুর মা-বাবা ও ছোট চাচা মামুন শেখকে আটক করে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার দিনগত রাতে মা শান্তা বেগমকে একমাত্র আসামি করে শ্রীনগর থানায় মামলা করে পুলিশ। যমজ শিশুর বড় চাচা আল-আমিন শেখ বাদী হয়ে ওই মামলা দায়ের করেন।

 

জানা গেছে, গত সোমবার দিনগত রাত ৮টার দিকে জেলার শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের বিবন্ধী গ্রামের সোহাগ ও শান্তা দম্পতির যমজ কন্যা লামিয়া ও সামিহাকে নিজ বাড়ির পাশের পুকুর থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে রাত ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক যমজ শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই বছর আগে উপজেলার বিবন্ধী গ্রামের দিনমজুর সোহাগ শেখ ও একই উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের মজিদপুর দয়হাটা গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে শান্তা বেগমের বিয়ে হয়। ৫ মাস আগে শান্তা যমজ কন্যা সন্তান প্রসব করেন। কন্যা সন্তান প্রসব মেনে নিতে পারেনি স্বামী সোহাগ। একই সঙ্গে যমজ শিশু কন্যার চেহারা ছোট ভাই মামুন শেখের মতো দেখতে অজুহাত দাঁড় করান স্বামী সোহাগ। এ নিয়ে যমজ শিশুর মা-বাবার মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। ঘটনার রাতে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে মা শান্তা প্রথমে পাটতন বসতঘরের পেছনের দিকের দরজা খুলে প্রথমে লামিয়া ও পরে সামিহাকে পুকুরের পানিতে ফেলে দেন। এ সময় উভয়ের হট্টগোলের শব্দ শুনে প্রতিবশীরা এগিয়ে এসে জানতে পারেন যমজ শিশু কন্যাকে পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে স্থানীয়রা যমজ শিশুকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে।