নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রতন নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইউনুস (৪০)কে কুড়িগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব ১১ এর সিও লে. কর্নেল সাজ্জদ হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷ গ্রেফতারকৃত ইউনূস রূপগঞ্জ থানার বরাব মুগড়াকুল এলাকার মৃত নবুর ছেলে।
র্যাব জানায়, চলতি বছরের গত ১৭ জুন সকালে সোনারগাঁও উপজেলার ভারগাঁও এলাকার ওলামা নগর খালপাড় বেরিবাঁধের পূর্ব পাশ থেকে রতন (৩৮) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রতন নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর এলাকার মোঃ মালেক মোল্লার ছেলে। খবর পেয়ে পরে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
এঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।। উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে এবং এলাকাবাসী আসামীদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। গত বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব ১১ ও র্যাব-১৩ এর যৌথ অভিযানে কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানাধীন পাচগাছি হারুগারা ইউপির অন্তর্গত আরাজী কদমতলা এলাকা হতে উক্ত হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামী ও ভিকটিম পূর্বপরিচিত। তারা দুজনই একই এলাকার বাসিন্দা ও মাদক ব্যবসায়ী হওয়ায় মাঝে মাঝে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের বিরোধ হতো। এরই প্রেক্ষিতে ০২ বছর আগে ও আসামীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে এবং ভিকটিম আহত হয়। হত্যা কান্ডের ১৫ দিন আগে আবার ভিকটিম ও আসামীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আসামী ইয়ানুছ (৪০) ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। ১৭ জুন ভোর ০৩:৩০ ঘটিকার সময় যুবক রতনকে ডেকে নিয়ে মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। এরপর আসামীরা রতনের গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। উক্ত হত্যাকান্ডে মোট ০৮ জন অংশ নেয়। তারা ভিকটিমের লাশ খালে ফেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামী ইয়ানুছ পলাতক ছিল, গ্রেফতারের পূর্বে সে কুড়িগ্রামে আত্বগোপন করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো স্বীকার করে যে গ্রেফতার এড়াতে সে পার্শ্ববর্তী দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। যার ফলে সে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল।



