রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনটি অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিন দিন সরগরম হয়ে উঠছে ভোটের মাঠ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লা অলিগলিতে চলছে প্রার্থীদের নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে তত নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা বেড়ে যাচ্ছে। দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।
নিজেদের জানান দিতে ভোটারদের কাছে গিয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। ভোটাররাও তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে এবং ভোট দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যাদের ধারা বিগত সময়ে রূপগঞ্জের নানা ধরনের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক উন্নয়ন করবেন এমন প্রার্থীকেই বেছে নেবেন বলে ভোটারদের দাবি।
শুক্রবার ২৯ ডিসেম্বর দিনব্যাপী প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা ও গণসংযোগ ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে এখানে নৌকা সমর্থকদের দাবি, নৌকা প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের জনপ্রিয়তা ও গণজোয়ার দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে হয়ে করতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বিভিন্ন মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড গ্রাম ও পাড়া মহল্লা প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন। রূপগঞ্জ আসনে নৌকা মনোনীত প্রার্থী পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, স্বতন্ত্র প্রার্থী কেটলি মার্কায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহজাহান ভূঁইয়া, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ মার্কায় অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লাঙ্গল মার্কায় সাইফুল ইসলামসহ ৮ জন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।
এরমধ্যে গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক নৌকা মনোনীত প্রার্থী হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন শাজাহান ভূঁইয়া। আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে কাজ করছেন। অপরদিকে আওয়ামীলীগের একটি অংশ শাহজাহান ভূইয়ার পক্ষ হয়ে কাজ করছেন।
প্রার্থীরা এক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দী অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ এনে বক্তব্য দিচ্ছেন। এ নিয়ে এলাকায় চলছে আলোচনা সমালোচনা ঝড়। এ নিয়ে প্রার্থীদের সমর্থকদের মাঝেও রয়েছে চরম ক্ষোভ।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুল আজিজ বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপ প্রচার করা আর আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে করা সমান অপরাধ। গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এর জনপ্রিয়তায় এবং গণজোয়ার দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাজাহান ভূইয়া ও অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বিভিন্ন মিডিয়ায় বিভ্রান্তি মূলক অপ প্রচার চালাচ্ছেন। তারা মনে করেছে মিডিয়াতে বিভ্রান্তি মূলক বক্তব্য এবং অপপ্রচার করে জনপ্রিয়তা বাড়াবে। তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। বিগত ১৫ বছরে গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এমপি এবং মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে রূপগঞ্জের উন্নয়ন করে চিত্রপাল্টি দিয়েছে। ভুলতা ফ্লাইওভার, গাজী সেতু, পূর্বাচল উপশহর, মেট্রোরেল, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, শিক্ষার মান উন্নয়ন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সহযোগিতা, মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন। নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য রেখে রূপগঞ্জের সাধারণ জনগণকে সময় দিয়েছেন সুখে-দুখে থেকেছেন। বিগত সময় যারা এমপি মন্ত্রী ছিলেন তারা এতটুক সময় রূপগঞ্জের মানুষকে দেননি। আর এসব কারণে গোলাম দস্তগীর গাজীর জনপ্রিয়তা শীর্ষে। তাই গোলাম দস্তগীর গাজীকে হ্যালো করতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি মূলক প্রোপাকান্ডা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিপুল ভোটে নৌকা প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীককে রূপগঞ্জের ভোটাররা বিজয়ী করবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে, আলহাজ্ব শাহজাহান ভূঁইয়ার (কেটলি প্রতীক) এর সমর্থক কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম রফিকের দাবি, জননেত্রী শেখ হাসিনা দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ায় আলহাজ্ব শাহজাহান ভূঁইয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। রূপগঞ্জের ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।
এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের সমর্থক নুরা মিয়া বলেন, সোনালী আশ প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট একজন সৎ ও ভালো মানুষ। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে রূপগঞ্জের ভোটাররা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন বলে আমরা আশাবাদী।
জাপা প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থক রাসেল মাহমুদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। তবে এখানে পেশী শক্তি প্রয়োগ করা হবে আমরা আশঙ্কায় আছি।
রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহসান আহমেদ রাসেল বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিতের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে সকল প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটারা নির্বিঘ্নে ভোট দেবেন। কোন প্রার্থী কোন প্রকার যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



